** সপ্ত অপরিহানীয় ধর্ম যে কোন ব্যক্তি, পরিবার তথা সমাজ ও রাষ্ট্র নীতির ক্ষেত্রে অপরিহার্য নীতি আলোচনা কর?
উত্তর ঃ সুচনা ঃ সুত্তপিটকের অর্ন্তগত দীর্ঘনিকায়ের অর্থকথা সুমঙ্গল বিলাসীনি গ্রন্থে পূরাণ বর্জ্জিদের সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। ভগবান যখন গৃধ্রকুট পর্বতে অবস্থান করতে ছিলেন। তখন রাজা অজাতশত্রু কর্তৃক প্রেরিত বর্ষকার মন্ত্রীর উক্তিকে বুদ্ধ বর্জ্জিদের সম্পকে সপ্ত অপরিহানীয় ধর্ম সম্পর্কে অবগত করেছিলেন। নিম্নে এ সম্পর্কে আলোচনা করা হল ঃ
সপ্ত অপরিহানীয় ধর্ম ঃ ভগবান বুদ্ধ বৈশালীর সারন্দদ চৈত্যে অবস্থান করার সময় বৃজিদের জাতীয় কল্যাণে যে সাতটি উপদেশ প্রদান করেছিলেন সে গুলোকে বৌদ্ধ সাহিত্যে সপ্ত অপরিহানীয় ধর্মরুপে আখ্যায়িত। এই সপ্ত অপরিহানীয় ধর্মের মধ্যে নিহিত রয়েছে ঐক্য, সংহতি ও সৎজীবন যাপন করার অমূল্য উপদেশ। যে কোন ব্যক্তি বা পরিবার তথা সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি এতে নিহিত রয়েছে। সে গুলো হল ঃ১. তাঁরা যেন সদা সর্বদা অভিন্ন হৃদয়ে সাধারণ সভায় সম্মিলিত হয়। অথার্ৎ বর্জ্জিগণ সর্বদা সম্মিলিত হন; সর্বদা সুম্মিলিত হতে অথার্ৎ গতকল্য সম্মিলিত হয়েছি পরশু ও পূনঃ অদ্য কেন সম্মিলিত হব, তারা এরুপ বলে না। এভাবে একতা ও সংহতি নিহিত আছে।
২. তাঁরা যেন সকলে একমত হয়ে সংঘবদ্ধ ভাবে সভায় উপস্থিত হয় ও সভা ত্যাগ এবং একমতে সাধারণ কর্তব্য কার্য সম্পাদন করে। অর্থাৎ- বর্জ্জিগণ সম্মিলিত হওয়ার সংকেত পেলে তাদের মধ্যে কেউ এখনতো আমার কাজ আছে বা আমি তো মাঙ্গলিক কাজে ব্যাপৃত আছি এরুপ কোন আপত্তি না করে যে যেভাবে থাকুক না কেন যথা সময়ে সকলে সম্মিলিত হয়ে থাকেন ও কার্য্যাদি সকলে একমত হয়ে সম্পাদন করতঃ এক সঙ্গে বৈঠক হতে উঠে থাকেন এবং এক জনের রোগ, দুঃখ অভাবাদি ঘটলে সকলে মিলিত হয়ে তা প্রতিকার করেন। একের কার্য হলেও তা সকলে সম্পাদন করেন। এখানেও ঐক্য ও সংহতি ও সমাজ পরিচালনার নীতি নিহিত আছে।
৩. তাঁরা যেন হঠাৎ অবিহিত বিধি ব্যবস্থা গ্রহন না করে বিহিত বিধি ব্যবস্থার উচ্ছেদ না করে এবং যথা বিহীত প্রাচীন বিধি ব্যবস্থা সমূহ পালন করেন। অর্থাৎ- বর্জ্জিগণ পূর্বে যেরুপ বিধি ধর্মতঃ ব্যবস্থাপিত হয়নি এমন কোন বিধি বর্তমানে ব্যবস্থাপিত সুনীতি গুলো ও লংঘন করেনা, পৌরানিক বজ্জীরাজ ধর্মে বিচারাদি সম্পর্কে যে রুপ ব্যবস্থা আছে তার অনুবর্তী হয়ে চলেন। এতে সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি নিহিত আছে।
৪. বায়োবৃদ্ধ ও জ্ঞান বৃদ্ধদের প্রতি সম্মান প্রর্দশন করে ও তাঁদের উপদেশ মেনে চলে। অর্থাৎ-বর্জ্জিগণ তাদের মধ্যে যাঁরা বৃদ্ধ তাঁদের প্রতি সৎকার গৌরব সম্মান ও পূজা করেন এবং তাঁদের হিতোপদেশ মেনে চলেন। এতে ঐক্য সংহতি ও সৎজীবন যাপনের নীতি নিহিত আছে।
৫. তাঁরা যেন কুলবধ ুও কুলকমারীদের প্রতি কুব্যবহার বা কোন প্রকার জবর দস্তি না করে। অর্থাৎ, বর্জ্জিগণ কুলবধু ও কুলকুমারিদের প্রতি কুব্যবহার বা বলপূর্বক ধরে এনে স্বীয় গৃহে বাস করান না বা বলাৎকার করেন না। এতে সৎ জীবন যাপনের নীতি নিহিত আছে।
৬. বর্জ্জিদেশের অভ্যন্তরে ও বর্হিভাগে বর্জ্জিদের প্রতিষ্ঠিত যত চৈত্য আছে, সেগুলো পূজার্চ্চানাদি দ্বারা সম্মান প্রর্দশন করে এবং তাদের প্রাপ্য রাজস্বাদি আতœসাৎ না করে। অর্থাৎ বর্জ্জিগণ তাঁদের স্বীয় নগরে ও বর্হিনগরে বর্জ্জীদের যে সমস্ত চৈত্য আছে তৎসমুদয় সৎকার গেীরব, সম্মান, পূজা যথাবিহিত ভাবে করে থাকেন এবং পূর্বে যে সমস্ত রাজস্ব দেশ সেবার্থে প্রদত্ত তা ফেরত নেয় না ও পূর্বকৃত ধর্ম্মত পূজার পরিহানি করে না।
৭. তাঁরা যেন বর্জ্জি রাজ্যে অর্হৎদের রক্ষণাবেক্ষন ও ভরণ পোষনের সুব্যবস্থা করে যাতে তদ্দেশাস্থিত অর্হৎতেরা নিবিঘেœ ও শান্তিতে বসবাস করতে পারে এবং ভিন্ন দেশের অর্হৎতেরা ও তাঁদের রাজ্য আগমন করে শান্তি বাস করতে পারে। এতে সৎ জীবন যাপনের নীতি নিহিত আছে।
পরিশেষে বলা যায় যে, সপ্ত অপরিহানীয় ধর্মে ঐক্য, সংহতি ও সৎজীবন যাপনের জন্য অমূল্য উপদেশ। যা শিক্ষা করে আমাদের সমাজ, জাতি তথা পরিবারকে ঐক্য, সংহতি ও সৎজীবন যাপনের জন্য গড়ে তুলতে পারি।
লেখক পরিচিতিঃ সাধনাজ্যোতি ভিক্ষু, বি, এ (অনার্স) এম. এ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, এম, এড, দারুল আহসান বিশ্ববিদ্যালয়, অধ্যক্ষ, হিলচাদিগাং বৌদ্ধ বিহার, যুগ্ন-সচিব, পার্বত্য ভিক্ষুসংঘ- বাংলাদেশ, সচিব, পার্বত্য বৌদ্ধ মিশন।








কোন মন্তব্য নেই