yllix.com

Monetize your website traffic with yX Media

** কুমার প্রশ্নের বিষয়বস্তু আলোকে চতুরার্যসত্য সম্পর্কে আলোচনা?

উত্তর ঃ পালি সাহিত্যে ত্রিপিটকের অর্ন্তগত খুদ্ধক নিকায়ের প্রথম গ্রন্থ খুদ্ধক পাঠ। খুদ্ধক পাঠ শব্দের সংখ্সিপ্ত পাঠ বা আবৃতি। এক্ষুদ্রাকার গ্রন্থকানি প্রত্যেক ভিক্ষ শ্রমণের অবশ্যপাখ করা দরকার। ভক্ত গৃহী বৌদ্ধদের নিকট এটি পবিত্রমন্ত্ররুপে পরিগনিথ হয়। এগ্রন্থে কুমার প্রশ্ন একটি উল্লেখযোগ্য অংশ
11245489_368129546726155_2736884691639358559_nসুপক নামক সাতবছর বয়স্ক একজন বুদ্ধের মহাশ্রাবক ছিলেন। তিনি ঐ বয়সে অর্হত্বফল লাভ করেন এবং বয়সে ভগবানের নিকট উপসম্পদা প্রার্থী হন। তখন ভগবান বুদ্ধ তাঁেক পরীক্ষা করার জন্য দশটি প্রশ্ন করেন। এ প্রশ্ন গুলো হচ্ছে কুমার প্রশ্ন নামে খ্যাত।এপ্রশ্ন গুলোর মধ্যে চার নম্বর প্রশ্ন হল “চত্তারি নাম কিং? উত্তর- চত্তারি অরিয় সচ্চানি অর্থাৎ চারি আর্যসত্য। ১) দুঃখ আর্যসত্য ২) দুঃখ সমুদয় ৩) দুঃখ নিরোধ ৪) দুঃখ নিরোধের উপায়।
১)    দুঃখ আর্যসত্য ঃ এজগত দুঃখময়। মানব জীবন যেন এক দুঃখের সমুদ্র। সুখানুভূতির মধ্যে দুঃখনিহিত থাকে। অবিদ্যা সম্পন্ন মানব দুঃখকে সুখ মনে করে। দুঃখ বহুবিধ। যেমন- জন্মদুঃখ, জ্বরা, ব্যাধি,মরণ, শোক, পরিতাপ,দুমনস্যতা ,হতাশ,ি অপ্রিয় সংযোগ, প্রিয় বিযোগ, ইস্পিতবস্তু অপ্রাপ্তি দুঃখ। সংক্ষেপে পঞ্চ উপাদান স্কন্ধের প্রতি আসক্তি দুঃখ।
২)    দুঃখ সমুদয় আর্যসত্য ঃ এটা হল দুঃখের কারণ। তৃষ্ণাই দুঃখের কারণ। তুষ্ণা পূর্বজন্মের হেতু। এতৃষ্ণা কামনাকে আশ্রয় করে উৎপন্ন হয়। এ তৃষ্ণা তিন প্রকার যথা- কামতৃষ্ণা, ভব তৃষ্ণা, বিভব তৃষ্ণা। অজ্ঞানতার কারণে মানুষ অসত্যকে সত্য, সত্যকে অসত্য জ্ঞান করে। যার ফলে সেরুপ রস, শব্দ, গন্ধ, স্পর্শে আকৃষ্ট হয় এবং তা পওয়ার জন্য লালসা উৎপাদন করে। এভাবে জন্মের কারণ সৃষ্টি হয়।
৩)    দুঃখ নিরোধ আর্যসত্য ঃ তৃষ্ণার সর্বশেষ নিরোধ বা নিবৃত্তিই দূ:খ নিরোধ আর্যসত্য। এ চিরন্তন সত্য যারা উপলদ্ধি করতে সক্ষম, তাদের পক্ষে দৃ:খ নিবৃত্তির স্বপ্ন সুদুর পরাহত। এ জন্যে দু:খ নিরোধ সত্যজ্ঞান অবশ্য প্্রয়োজন ।
৪)    দু:খ নিরোধের উপায় আর্যসত্যঃ আর্য অষ্টাঙ্গিক মার্গই দুঃখ নিবৃত্তির উপায়। এটি আট প্রকার। যথা- সম্যক দৃষ্টি, সম্যক সংকল্প, সম্যক বাক্য, সম্যক কর্ম, সম্যক আজীব, সম্যক ব্যায়াম, সম্যক স্মৃতি, সম্যক সমাধি।
এই চতুরার্যসত্য ও আর্য অষ্টাঙ্গিক মার্গের গুরুত্ব সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে প্রাচ্য ভাষাবিধ রীস্ ডেবিডস্ বলেছেন- আমি বিশ্বের বৌদ্ধ ও অবৌদ্ধ সবরড় বড় ধর্মীয় বিধি-বিধান সমূহ পরীক্ষা করে দেখেছি। সৌন্দর্য ও ধীশক্তির ব্যাপকতার নিরিখে বুদ্ধের আর্য অষ্টাঙ্গিক মার্গ ও চারি আর্যসত্যকে অতিক্রম করার মত কোন কিছু অন্য কোন খানে খুঁজে পাইনি। ঐ মার্গ অনরুসারে আমার জীবন হঠন করে আমি পরিতৃপ্ত।
পরিশেষে বলা যায় যে, মানব জীবনে দুঃখের কারাগার থেকে মুক্তি লাভ করতে হলে উক্ত সত্য সমূহ অনুশীলন করতে হবে। উক্ত সত্য গুলো অনুশীলন করতে জীবনে দুঃখ মুক্তি বা নির্বাণ লাভ করা সম্ভব।
লেখক পরিচিতিঃ সাধনাজ্যোতি ভিক্ষু, বি, এ (অনার্স) এম. এ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, এম, এড, দারুল আহসান বিশ্ববিদ্যালয়, অধ্যক্ষ, হিলচাদিগাং বৌদ্ধ বিহার, যুগ্ন-সচিব, পার্বত্য ভিক্ষুসংঘ- বাংলাদেশ, সচিব, পার্বত্য বৌদ্ধ মিশন।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.