yllix.com

Monetize your website traffic with yX Media

** প্রেতবত্থু গ্রন্থের অবলম্বনে কর্মবাদ সম্পর্কে আলোচনা কর?

11008412_368131173392659_5987059760316958508_nউত্তর : সুত্র পিটকে খুদ্ধক নিকায়ের প্রেতবত্থু সপ্তম গ্রন্থ। এটি বিমানবত্থুর মত একই রীতিতে ও কাব্যে রছিত। বৌদ্ধ কর্মবাদ প্রচার করা হচ্ছে এর মূখ্য উদ্দেশ্য। বিমান বত্থুর সঙ্গে এর ব্যতিক্রম শুধু এই যে কর্মবাদের বিপরীত দিকটি এখানে প্রতিফলিত হয়েছে। বিমান বত্থুতে যেমন মানুষ দানাদি পূন্যকর্ম সম্পাদন ও পবিত্র জীবন যাপনের ফলে মৃত্রুর পর স্বর্গ লোকে জন্মলাভ করে দিব্য সুখ দীর্ঘ কাল উপভোগ করে। প্রেতবত্থুতে বর্ণিত হযেছে মানুষ ইহ জীবনে কুকর্ম ও অপবিত্র জীবন যাপনের  ফলে জন্ম-জন্মান্তরে প্রেত যোনিতে বা নরকে উৎপন্ন হয়ে অবশেষে দুৎখ যন্ত্রনা ভোগ করে। নিম্নে এ গ্রন্থ অনুসারে কর্মবাদের প্রতিপাদন করা গেল ঃ
প্রেতবত্থুর কর্মবাদ ঃ প্রেতবত্থু গ্রন্থে চারটিবর্গে মোট ৫১টি প্রেত কাহিনী আছে। এর মূখ্য  উদ্দেশ্য হল কর্মবাদ প্রচার করা। এ গ্রন্থে বলা হয়েছে- মানুষ কর্মেন অধীন। কৃতকর্মের ফলে কেউ এড়াতে পারেনা। যে যেরুপ কর্ম করে সে সেরুপ কর্মের ফল ভোগ করে। শ্রাস্ত্রে বলা হয়েছে পাপী ব্যক্তি তাঁর কৃতকর্মের ফল এড়াবার জন্যে অন্তরীক্ষে সাগর জলে কিম্বা পর্বত গুহায় প্রবেশ করলেও রক্ষা নেই। তাঁকে তার দুষ্কর্মের ফল ভোগ করতে হবে। ধর্ম ও অধর্ম দুটি ফল দুই প্রকার। অধর্ম মানুষকে দুঃখ প্রদান করে আর ধর্ম মানুষবে বহু প্রকার সুখ প্রদান করে।
প্রেতবত্থু গ্রন্থে মানুযষ মুষ্কর্মের ফলে কিভাবে প্রেতলোকে জন্ম গ্রহন করে দুঃখ ভোগ করে তাই বর্ণিত হয়েছে। এত বলা হয়েছে যে মানুষ কর্মের তারতম্য অনুসারে প্রেতলোকে উৎপন্ন হয়ে নানা প্রকার দুঃখ ভোগ করে। এমন কতকগুলো প্রেত আছে যারা দিনের বেলায় দিব্য সুখ ভোগ করে এবং রাতের বেলায় মহা দুৎখ ভোগ করে। এদেরকে বৈমইনক প্রেত বলে। অপর এক প্রকার প্রেত আছে যারা অবিরাম দুঃখ ভোগ করে কোন কোন প্রেত আছে যারা অতিশয় দুগর্ন্ধযুক্ত এবং দেখতে ভয়ানক বিশ্রী। পালি সাহিত্যে চয় প্রকার প্রেত বর্ণনা আছে। যেমন- ১) ঋতুজীবি ২) ক্ষুৎপিপাসিক ৩) নিজ্ঝাম তৃষ্ণিকা ৪) কালকঞ্জিক ৫) পংশুপিশাচ ৬) পরদত্তোপজীবি প্রেত।
ইহলোকে যারা কৃপন, লোভী, হিংসাপরায়ণ নিজেও কুশলকর্ম করে না, অরকেও কুশলকর্ম সম্পাদনে উৎসাহিত করে না, দানীয়বস্তু আত্মসাৎ করে, কোন ব্যক্তি উত্তম দান দিতে ইচ্ছা করলে তাকে নিরুৎসাহিত করে, পরশ্যীকাতর ও ঈর্ষাপরায়ন তারা মৃত্যুরপর প্রেতলোকে উৎপন্ন হয়।প্রেতগণ শতসহস্র বৎসর এমনি কোটি কোটি বৎসর কিম্বা একবুদ্ধান্তর কল্পকাল পর্যন্ত কোন প্রকার আহার বা এক বিন্দু জলের অভাবে মহাদুঃখ ভোগ করে। ক্ষুৎপিপাসায় কাতর হয়ে রক্ত মাংস শুষ্ক হয়। তাদের ভীতিজনক কঙ্কালময় দেহ দেখলে মানুষ আতঙ্কগ্রস্থ হয়ে পড়ে।
প্রেতদের দেহাভ্যন্তর বড় বড় স্নায়ু মন্ডলীপৃষ্ট কন্টকের সহিত উদরে চর্ম লেগে যায়। শরীরে ফাটল ধরে। গ্রাত্র চর্মস্থিত কারও কারও মুখ মন্ডল আবৃত হয়। উলঙ্গ, দুর্বল, বিশ্রী বিরাট দেহ পাঞ্জর এক বিরাট অবনর্ণীয় ব্যাপার। পূর্ব জন্মার্জিত পাপকর্ম স্মরণ করে নিয়ত অনুতাপানলে দগ্ধ হয় এবং খাদ্যের অন্বেষণে নিয়ত ছুটাছুটি করে। অবশেষে যেখানে সেখান ক্লান্ত দেহে পড়ে থাকে। বহু বৎসর পর জল পান কর, জল পান কর এমন বাণী শ্রƒত হয়। তারা এরুপ আশার বাণী শ্রবণ করে আপ্রাণ চেষ্ট সত্বেও উঠতে পারেনা। গড়াগড়ি ও হামাগুড়ি দিতে দিতে বহু যোজন অগ্রসর হয়। কিন্তু এভাবে অগ্রসর হয়েও কোথাও খাদ্য-দ্রব্য বা পানীয় দাতার সন্ধান পায় না। তারা চিৎকার করে উঠে একটু জল দাও খাবার দাও। হায়! তারা তখন নিরাশ হয়ে শুনতে পায় নেই নেই। এরপর তারা অহো দুঃখ অহো দুঃখ বলে ক্রন্দন করে বলে এটি কি কেবল ফাঁকি?
বহুদিন পরে প্রেতলোকে এই নেই শব্দটি শোনার কারণ কি? এর প্রত্যুত্তরে বলা হয়েছে যে তারা মানব কুলে প্রচুর ধন সম্পত্তি থাকা সত্বেও কাউকে দান করে না, কেবণ নেই নেই, বলে যাজক ও আত্মীয়-স্বজনকে ফিরেদেয়, তারা প্রেতলোকে উৎপন্ন হয়ে বহুদিন পর নেই এরুপ শব্দটি শুনতে পায়। এভাবে প্রেতলোকে উৎপন্ন প্রাণীদের দুঃখের বর্ণনা শেষ করা যাবে না। উদাহরণ স্বরুপ বলা যেতে পারে শুকরমুখ প্রেতকথা। অতীতে কাশ্যপ বুদ্ধের শাসনের সময় এক ভিক্ষু কায়দ্বারে সংযত ছিলেন বটে কিন্তু বাক্যদ্বারে ছিলেন অসংযত। তিনি সর্বদা ভিক্ষুদের আক্রোশপূর্ন বাক্যে ভৎসনা করতেন। এত তিনি মৃত্যুর পর নরকে পতিত হন। তথায় এক বুদ্ধান্তর কাল নিরয় দুঃখ ভোগ করে গৌতম বুদ্ধের সময়ে রাজগৃহে সমীপে গৃন্ধকুট পর্বতের পাদদেশে ক্ষুধা তৃষ্ণাতুর প্রেত হয়ে জন্ম গ্রহন করেন। তার দেহ হল সুর্বণ বর্ণ এবং মুখ খানা হল শুকরমুখ সদৃশ। এটি বাচনিক পাপের পরিণাম।
পরিশেষে বলা যায় যে, প্রেতবত্থু গ্রন্থে অতি সুন্দরভাবে কর্মবাদ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। অর্থাৎ যারা অকুশল কর্ম করে তারা প্রেত লোকে উৎপন্ন হয়ে অশেষ দুঃখ ভোগ করে। তাই সকলের উচিত অকুশল কর্ম পরিহার করে কুশল কর্মে নিজেকে নিয়োজিত করা।



লেখক পরিচিতিঃ সাধনাজ্যোতি ভিক্ষু, বি, এ (অনার্স) এম. এ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, এম, এড, দারুল আহসান বিশ্ববিদ্যালয়, অধ্যক্ষ, হিলচাদিগাং বৌদ্ধ বিহার, যুগ্ন-সচিব, পার্বত্য ভিক্ষুসংঘ- বাংলাদেশ, সচিব, পার্বত্য বৌদ্ধ মিশন।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.