yllix.com

Monetize your website traffic with yX Media

** থের গাথার আলোকে উপালি জীবন চরিত সম্পর্কে আলোচনা কর?

উত্তর ঃ সুচনা: পালি সাহিত্যে সূত্র পিটকের অর্ন্তগর্ত খুদ্ধক নিকায়ের থের গাথা গ্রন্থে উপালির জীবন কাহিনী আলোচনা করা হয়েছে। মহাশ্রাবক উপালি স্থবির মহামানব গৌতম বুদ্ধের প্রিয় শিয্যের মধ্রে বিনয়ে প্রধান ছিলেন। বুদ্ধের যে সমস্ত অশিতি মহাশ্রাবক ছিলেন, প্রত্যেকে তাঁদের পূর্বাজিত প্রার্থীত আসন লাভ করেছিলেন। উপালি ও তাঁর জন্ম জন্মান্তরে প্রার্থনার আসন লাভ করে পালি সাহিত্যে স্মরনীয় হয়ে রয়েছেন। নিম্নে থের গাথার আলোকে তাঁর জীবন চরিত আলোচনা করা গেল।
11011118_368129560059487_5694333754881583375_nউপালি : উপালি কপিলাবস্তুর রাজকুলে ক্ষৌরকার বংশে জন্ম গ্রহন করেন।তাঁর গৃহীর নাম ছিল পূর্ন, মাতার নাম মন্তানি। অপদান গ্রন্থে জানা যায় উপালি পূর্ববর্তী বুদ্ধের সময়ে মহাপূন্য সঞ্চয় করে তখন হতে লক্ষ কল্প কাল পূর্বে পদুমুত্তর বুদ্ধের নসময় তিনি সুজাত নামে ব্রাহ্ম কুলে জন্ম গ্রহন করেন। একদিন ধর্ম সভায় গিয়ে জনৈক এক ভিক্ষুকে বুদ্ধ “বিনয়ধর”  উপাধি প্রদান করতে দেখলেন। তখন তিনিও সেরুপ ভিক্ষু হওয়ার মানসে বহুশত সহস্র টাকা ব্যয় করে শোভন নামে সংঘরাম নির্মাণ করে চর্তুপ্রত্যয়ের সহিত বুদ্ধ প্রমূখ ভিক্ষু সংঘকে দান করলেন। সে পূন্য প্রভাবে তিনি ত্রিশকল্প পর্যন্ত দেব ঐশ্বর্য সম্বোগ করেন। সহস্রবার ইন্দ্র ও চক্রবর্তী রাজা হয়ে বিপুল সুখৈশ্বর্য পরিভোগ করে ছিলেন। কতবার প্রাদেশিক শাসন কর্তা হয়েছেন তাঁর ইয়ত্তা নেই। এক সময় তিনি চন্দন কুমার নামে জন্ম গ্রহন করে যৌবরাজে অভিষিক্ত হয়ে প্রত্যেক বুদ্ধকে দেখে স্বীয় হস্তিকে সে দিকে  প্রেরন করলেন। কিন্তু বুদ্ধের মহিমায় হস্তী সে দিকে ধাবিত না হলে তিনি ক্রুদ্ধ হয়ে হস্তীকে প্রহার করেনএবং বুদ্ধের প্রতিও রাগান্বিত হন। তৎমুহুর্তে তার শরীরে দাহ উৎপন্ন হল। তিনি কোথাও শান্তি না পেয়ে পিতার পরামর্শে প্রত্যেক বুদ্ধের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে দাহ থেকে পরিত্রাণ লাভ করেন। সে অকুশল কর্মের দ্বারা গৌতম বুদ্ধের সময়ে হীন কুলে ক্ষৌরকার বংশে জন্ম গ্রহন করেন। তিনি প্রব্রজ্যা গ্রহন করে বুদ্ধের শাসনে বিনয়ধর উপাধিতে ভূষিত হন।
প্রব্রজ্য গ্রহন :  ভগবান বুদ্ধ যখন বুদ্ধত্ব লাভ করেন তখন শত শত মানুষ বুদ্ধের শাসনে প্রব্রজ্যা ধর্মে দীক্ষিত হন। অনুরুদ্ধ, আনন্দ, ভৃগু ইত্যাদি রাজপুত্ররা ও প্রব্রজ্যা গ্রহন করার জন্য যাত্রা করেন তখন উপালি ও তাঁদের সঙ্গে গিয়েছিলেন। কপিরাবস্তু হতে কিছুদুর গিয়ে তাঁরা মূল্যবান বসন, ভূষণ ইত্যাদি উন্মোচন পূর্বক প্রিয় সহচর উপালির হস্তে দিয়ে বললেন- এগুরো তোমাকে দিলাম, তুমি ঘরে ফিরে যাও। কিন্তু তিনি চিন্তা করলেন- আমি একাকী কপিলাবস্তুতে ফিরে গেলে শাক্যেরা আমাকে হত্যা করবে। বিশেষতঃ ক্ষৌরকার বংশে আমার জন্ম এ সমস্ত মহামূল্যবান দ্রব্য আমার উপযুক্ত নয়। রাজপুত্রেরা যখন বিপূল্য ঐশ্বর্য ত্যাগ করে প্রব্যজ্যা গ্রহন করতে যাচ্ছেন তখন আমার পক্ষে প্রব্রজিত হওয়া আরো সহজ এ সংকল্প করে তিনি ঐ বস্ত্র অলংকার ইত্যাদি এক বৃক্ষের ডালে ঝুলিয়ে দিয়ে রাজ পুত্রদের সাথে গমন করলেন। রাজপুত্ররা যখন বুদ্ধের নিকট প্রব্রজ্যা গ্রহন করতেছেন তখন তিনিও প্রব্রজ্যা প্রার্থনা করলেন।
বুদ্ধ তখন শাক্যপুত্রদের অনুরোধে উপালিকে অগ্রে প্রব্রজ্যা প্রদান করেন। তিনি কর্মস্থান গ্রহন করে গভীর অরণ্যে বির্দশন ধ্যান করে অর্হত্বফলে প্রতিষ্টিত হয়ে ভিক্ষু সংঘের মধ্যে “বিনয়ধর” উপাধি লাভ করেন।
সংগীতিতে উপালি : ভগবান বুদ্ধের মহাপরিনির্বাণের পর সপ্তপর্ণী গুহায় মহাকশ্যপের সভাপতিত্বে প্রথম সংগীতি অুনষ্টিত হয়। সংগীতিতে সর্ব সম্মতিক্রমে উপালি বিনয় সম্পর্কে প্রশ্ন সমূহের জবাব দেওয়ার জন্য মনোনীত হন। উপালি যখন ধর্মাসনে উপবেশন করে তখন মহাকশ্যপ স্থবির সংঘের সম্মতি অনুসারে পারাজিকা কখন প্রজ্ঞপ্তি হয়? মূল প্রজ্ঞপ্তি ও অনুপ্রজ্ঞপ্তি উত্যাদি সম্পর্কে উপালি স্থবিরকে প্রশ্ন করা হয়। উপালি স্থবির এক এক সম্সত প্রশ্নের উত্তর প্রদান করেন। এ কারণে তিনি পালি সাহিত্যে বিনয় আবৃত্তি কারক হিসেবে চির স্মরণীয় হয়ে রয়েছেন।
উপালি স্থবিরের উপদেশ : উপালি স্থবির উপোসথ দিবসে পাতিমোক্ষ আবৃত্তি সময়ে ভিক্ষুদের উপদেশ প্রসঙ্গে বললেন- প্রথম শিক্ষার্থী নব প্রব্রজিত কর্মফল ও রত্নত্রয়ের প্রতি বিশ্বাস করে গৃহ হতে বের হয়ে শুদ্ধ জীবি, বীর্য পরায়ন কল্যাণ মিত্রের নিকট উপস্থিত হবেন। সে নব প্রব্রজিত ভিক্ষুসংঘের মধ্যে বাস করবেন। জ্ঞানী ভিক্ষুর নিকট বিনয় শিক্ষা করবেন। যোগ্য-অযোগ্য দক্ষ হবেনও তৃষ্ণা উৎপাদনের প্রত্যাশা না করে বাস করবেন। তাহলে দুঃখ মুক্তি চিরশান্তি নিবার্ণ লাভ করতে সক্ষম হবের।
পরিশেষে বলা যায় যে, উপালি স্থবির বিনয়ধর হিসেবে পালি সাহিত্যে চির স্মরণীয় হয়ে রয়েছেন। তিনি প্রথম সংগীতিতে বিনয় আবৃত্তি করে বুদ্ধের শাসনকে আরো সুদৃঢ় করেছেন। তিনি বহু পূন্য কর্মের ফলে বিনয়ে প্রধান উপাধি লাভ করতে সক্ষম হন।
লেখক পরিচিতিঃ সাধনাজ্যোতি ভিক্ষু, বি, এ (অনার্স) এম. এ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, এম, এড, দারুল আহসান বিশ্ববিদ্যালয়, অধ্যক্ষ, হিলচাদিগাং বৌদ্ধ বিহার, যুগ্ন-সচিব, পার্বত্য ভিক্ষুসংঘ- বাংলাদেশ, সচিব, পার্বত্য বৌদ্ধ মিশন।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.