** পুগ্গল পঞ্ঞত্তি শব্দের অর্থ কি? পুগগল কত প্রকার ও কি কি আলোচনা কর?
উত্তর ঃ পুদগল পঞ্ঞত্তি শব্দের অর্থ ঃ পু¹ল পঞ্ঞত্তি এই শিরো নামটি দুইটি শব্দের সমবায়ে গঠিত। পুদ্গল বা পুগ্গল শব্দটির অর্থ ব্যবহারিক সত্যানুসারে – ব্যক্তি, পুরুষ, সত্বা বা আত্মা। পরমার্থ সত্যানুসারে পুদগলের অস্তিত্ব স্বীকার করা হয় না। এটি প্রতিয়িত পরিবর্তনশীল চিত্ত সন্তুতি মাত্র। এতে পুদগল বা ব্যক্তি বিশেষের স্বরুপ ও ক্রমবিকাশ দেখানোর জন্য পুদগলকে নানাভাবে বিভক্ত করা হয়েছে। যথা- পৃথকজন, শৈক্ষ্য, অশৈক্ষ্য, আর্য, অনার্য, স্রোতাপন্ন, সকৃদাগামী, অনাগামী, অর্হৎ, প্রত্যকবুদ্ধ, সম্যক সম্বুদ্ধ ইত্যাদি।
পজ্ঞপ্তি বা পঞ্ঞত্তি শব্দের অর্থ প্রজ্ঞাপনা জ্ঞাত করা, দর্শন করা, প্রকাশ করা অথবা যথার্থ বলে নির্দেশ করা। সুতরাং পুদগল প্রজ্ঞপ্তি শব্দের অর্থ দাড়ায় এই যে, যেই পুস্তক পুদগল বা ব্যক্তি বিশেষের পরিচয় প্রদান করে।
পুদ্গল প্রজ্ঞত্তি বা পুদগগল পঞ্ঞত্তি অভিধর্ম পিটকের চতুর্থ গ্রন্থ। কিন্তু আধুনিক পন্ডিতদের মধ্যে কেউ কেউ এটি অভিধর্ম পিটকের অন্তগর্ত বলে স্বীকার করতে রাজী নন। ডঃ রীস ডেভিডস এটিকে অভিধর্ম পিটকের সর্ব প্রাচীন গ্রন্থ বলে অভিমত প্রকাশ করেছেন। বিখ্যাত বৌদ্ধাচার্য বুদ্ধঘোষ তাঁর অট্ঠকথায় এটি বুদ্ধ কর্তৃক এয়ত্রিংশ দেবলোকে দেশিত হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন। বিশেষতঃ এর আলোচ্য বিষয়ের বর্ণনা ভঙ্গিমা দীর্ঘ নিকায়ের সংগীতি সুত্র ও অঙ্গুত্তর নিকায়ের সঙ্গে বিশেষ সম্পর্কযুক্ত। এর তৃতীয় হতে পঞ্চম অধ্যায় অধিকাংশ অঙ্গুত্তর নিকায়ে পাওয়া যায়। গ্রন্থটি নিকায় পরবর্তী যুগের রচনা বলে মনে হয়।
পুদগলের প্রকারভেদ ঃ আলোচ্য গ্রন্থে স্কন্ধ, আয়তন, ধাতু, সত্য দেখা যায়। বুদ্ধ ঘোষ প্রমূখ আচার্যরা আরও বহু প্রকার প্রজ্ঞপ্তি উল্লেখ করেছেন। অভিধম্মত্থ সঙ্গহে বুদ্ধ ঘোষ নির্দেশিত প্রজ্ঞপ্তি সমুহের মধ্যে প্রথম ছয়টি পরিচয় আছে। বিভঙ্গ প্রকরণে স্কন্ধ, আয়তন, ধাতু, সত্য ও ইন্দ্রিয় ইত্যাদি পাচঁটি প্রজ্ঞপ্তির বিস্তৃত বর্ণনা দেখা যায়। বিবিধ প্রকার পুদগলের যথার্থ পরিচয় প্রদান করা এই গ্রন্থের মূল লক্ষ্য।
গ্রন্থের প্রারম্ভে আলোচ্য বিষয়ের সারাংশ প্রদত্ত হয়েছে। প্রথমে ষড়বিধ প্রজ্ঞপ্তি কি কি এর উল্লেখ করা হয়েছে। তারপর একবিধ পুদগল দ্বিবিধ পুদগল এভাবে দশবিধ পুদগলের ব্যাখ্যা করা হয়েছে। উপরোক্ত তালিকায় পঞ্চাশ প্রকার পুদ্গল দশটি অধ্যায়ে আলোচনা করা হয়েছে। পঞ্চাশ প্রকার পুদগল যথা- ১। কাল বিমুক্ত ২। অকাল বিমুক্ত ৩। কুপ্যধর্মী ৪। অকুপ্যধর্মী ৫। পরিহানীয় ধর্মী ৬। অপরিহানীয় ধর্মী ৭। চেতনাভব্য ৮। অনুরক্ষণভব্য ৯। পৃথক জন ১০। গোত্রভূ ১১। ভয়াবরুদ্ধ ১২। অকুতোভয় ১৩। উন্নত জীবন লাভের অক্ষম ১৪। উন্নত জীবন লাভের সক্ষম ১৫। নিয়ত ১৬। অনিয়ত ১৭। প্রতিপন্ন ১৮। ফলস্থিত ১৯। সমশীর্ষক ২০। স্থিত কল্প ২১। আর্য ২২। অনার্য ২৩। শৈক্ষ্য ২৪। অশৈক্ষ্য ২৫। শৈক্য ও নয় অশৈক্য নয় ২৬। ত্রিবিদ্যা ২৭। ষড়ভিজ্ঞ ২৮।সম্যক সম্বুদ্ধ ২৯। প্রত্যেক বুদ্ধ ৩০। উভয়ভাগ বিমুক্ত ৩১। প্রজ্ঞা বিমুক্ত ৩২। কায়দর্শী ৩৩। দৃষ্টিপ্রাপ্ত ৩৪। শ্রদ্ধাবিমুক্ত ৩৫। ধর্মানুসারী ৩৬। শ্রদ্ধানুসারী ৩৭। সপ্ত জন্মপরিগ্রাহক ৩৮। কুলকুলান্তর পরিগ্রহ ৩৯। একজীবি ৪০। সকৃদাগামী ৪১। অনাগামী ৪২। অন্তরাপরিনির্বাযী ৪৩। উপহত্যনির্বাযী ৪৪। অসংস্কার পরিনির্বাযী ৪৫। সসংস্কার পরিনির্বাযী ৪৬। উদ্ধস্রোত অকনিষ্ঠগামী সচেষ্ট ৪৯। অনাগামী ফল লাভে সচেষ্ট ৫০। অর্হৎ
অভিধর্ম পিটকের অন্যান্য গ্র্রন্থে চিত্ত, চৈতসিক, নামরুপ ও নির্বাণ ইত্যাদি পরমার্থ সত্য সম্পকীয় বিষয় সমূহ যেভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে সেভাবে পু¹ল পঞ্ঞত্তি গ্রন্থে ধর্ম সমূহের নির্দেশ করা হয়নি। উপরোক্ত আলোচনা বিচার করলে এ গ্রন্থটি সুত্রপিটকের অর্ন্তগত করা অযৌক্তিক নয়। অপরপক্ষে আচার্য বুদ্ধ ঘোষের ব্যাখ্যা অনুযায়ী শব্দের অর্থ যদি ধর্ম ও বিশিষ্ট ধর্ম উভয় বলে স্বীকৃত হয় তবে এটি অভিধর্মের পর্যায়ভূক্ত করা অযৌক্তিক নয়। কারণ এতে পুদগল বা ব্যক্তি বিশেষের স্বরুপ ও এর বিকাশ দেখার জন্য পুদগলকে নানাভাবে বিভক্ত করা হয়েছ্ েএদের প্রত্যেককে তাদের স্বভাব অনুসারে নানাভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এ গ্রন্থে দশটি অধ্যায়ে এই সকল বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিদের বিশেষ আলোচনা লিপিবদ্ধ আছে।
পরিশেষে বলা যায় যে, পু¹ল পঞ্ঞত্তি অভিধর্ম পিটকের একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ। এ গ্রন্থে দশটি অধ্যায়ে এই সকল বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিদের বিশেষ আলোচনা লিপিবদ্ধ আছে। তারপর একবিধ পুদগল দ্বিবিধ পুদগল এভাবে দশবিধ পুদগলের ব্যাখ্যা করা হয়েছে। উপরোক্ত তালিকায় পঞ্চাশ প্রকার পুদ্গল দশটি অধ্যায়ে আলোচনা করা হয়েছে।
লেখক পরিচিতিঃ সাধনাজ্যোতি ভিক্ষু, বি, এ (অনার্স) এম. এ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, এম, এড, দারুল আহসান বিশ্ববিদ্যালয়, অধ্যক্ষ, হিলচাদিগাং বৌদ্ধ বিহার, যুগ্ন-সচিব, পার্বত্য ভিক্ষুসংঘ- বাংলাদেশ, সচিব, পার্বত্য বৌদ্ধ মিশন।








কোন মন্তব্য নেই