yllix.com

Monetize your website traffic with yX Media

** আনন্দ চরিত সম্পর্কে যা জান আলোচনা কর?

11210523_368127596726350_1668450583252477426_nউত্তর ঃ আনন্দ কে : আনন্দ স্থবির ভগবান বুদ্ধের প্রধান সেবক ছিলেন। তাঁর পিতার নাম অমিতোদন, মাতার নাম জনপদ কল্যাণী। তাঁর জম্ম গ্রহনের সময় জ্ঞাতি বর্গের অন্তরে বিশেষ আনন্দ উৎপন্ন হওয়ায় তার নাম রাখা হয় আনন্দ। ভগবান বুদ্ধ সম্যক সম্বোধি লাভ করে ধর্ম চত্রু প্রবর্তন করার পর যখন কপিলা বস্তুতে উপস্থিত হন, সে সময় ভাদ্রিয়, অনুরুদ্ধ, ভৃগু, কিম্বিল, দেব দত্ত প্রমূখ শাক্য রাজ কুমারদের সাথে আনন্দ স্থবিরও বুদ্ধের নিকট প্রব্রজ্যা গ্রহণ করেন। ভগবান বুদ্ধ যখন ৫৬ বৎসর বয়সে পর্দাপন করেন, তখন একজন স্থায়ী সেবকের অনুভব করেন। এমন সময় আনন্দ আটটি বড় র্প্রাথনা করে স্থায়ী সেবক পদে নিযুক্ত হন। তিনি প্রথম সংগীতি আরম্ভ সময়ে অহর্ত্ব ফলে প্রতিষ্ঠিত হয়ে সংগীতিতে যোগদান করেন এবং সূত্র পিটক আবৃত্তি করেন। তিনি ১২০ বৎসর বয়সে পরিনির্বাণ লাভ করেন।
বৌদ্ধ ধর্ম রক্ষায় আনন্দের ভূমিকা : বৌদ্ধ ধর্ম রক্ষায় আনন্দের ভূমিকা অপরিসীম। তাঁর এই অসাধারণ অবদানের জন্য আমরা বৌদ্ধ জাতি আজ ধন্য। তিনি শুধু বৌদ্ধ সংগীতিতে যোগ দান করে বৌদ্ধ ধর্মকে সংরক্ষণ করেননি। বুদ্ধকেও যে ভাবে শ্রদ্ধা ও নিষ্ঠার সাথে সেবা বা রক্ষা করেছেন সত্যিই অতুলনীয়।
বুদ্ধের সেবক নিযুক্ত : আনন্দ স্থবির শাক্য কুমারদের  সাথে বুদ্ধের নিকট প্রব্রজ্যা গ্রহণ করেন। তারপর বুদ্ধের বয়স যখন ৫৬ বৎসর হয়, তখন ভিক্ষু সংঘের মধ্যে বির্তক সৃষ্টি হয়, কে হবেন বুদ্ধের সেবক। অবশেষে আনন্দ বুদ্ধের নিকট আটটি বর র্প্রাথনা করে স্থায়ী সেবক পদে নিযুক্ত হন। তা হল ঃ
১. বুদ্ধের উদ্দেশ্যে প্রদত্ত উত্তম চীবর বুদ্ধ কখনো তাঁকে প্রদান করবেন না।
২. বুদ্ধের উদ্দেশ্যে প্রদত্ত উত্তম আহার্য বুদ্ধ কখনও তাকে প্রদান করবেন না।
৩. বুদ্ধের শয়ন কক্ষে তিনি অবস্থান করবেন না।
৪. বুদ্ধের ব্যক্তিগত নিমন্ত্রণে তিনি সহগামী হবেন না।
৫. বুদ্ধের পক্ষে আনন্দ কর্তৃক গৃহীত নিমন্ত্রণে বুদ্ধের সম্মতি থাকতে হবে।
৬. বুদ্ধের দর্শন প্রার্থী দুরাগত ব্যক্তিকে বুদ্ধের নিকট নিতে পারবেন।
৭. তাঁর ইচ্ছানুসারে সময়ে তিনি বুদ্ধের সাথে সাক্ষাৎ করতে পারবেন।
৮. তাঁর অবর্তমানে বুদ্ধ যে সব ধর্ম দেশনা করবেন সে একই দেশনা তাঁর কাছে বুদ্ধ পূনঃ বার দেশনা করতে হবে।
বুদ্ধ কর্তৃক আনন্দের প্রশসংসা : আয়ুম্মান আনন্দ দীর্ঘ ২৫ বৎসর কাল অতন্তিতভাবে ঐকান্তিক শ্রদ্ধা ও নিষ্ঠার সাথে বুদ্ধের সেবা করেছিলেন। পরিনির্বাণ শষ্যায় শায়িত স্বয়ং তথাগত বুদ্ধ আনন্দের গুরুসেবার মাহাতœ্য ঘোষণা  করেছিলেন। আনন্দ তুমি দীর্ষকাল অবস্থান করেছ, দীর্ঘকাল প্রেমপূর্ণ হিত সুখকর দ্বিধাভাব রহিত অপরিমেয় কায়িক, বাচনিক, মানসিক কর্ম দ্বারা আমার পরিচর্যা করেছ। আনন্দ তুমি কৃত পূন্য সাধনে একনিষ্ঠ হও, অচিরে তুমি আসবক সমূহ হতে মুক্ত হবে। ভগবান বুদ্ধ আরও বললেন- আমি যেমন আনন্দকে সেবক রুপে লাভ করেছি, অতীতের বুদ্ধগণও সেরুপ সেবক লাভ করেছেন এবং ভবিষ্যতে যে সব বুদ্ধ উৎপন্ন হবেন তারাও এরুপ সেবক লাভ করবেন।
আনন্দের চারটি অদ্ভূত গুণ আছে। সে গুলো হল – যদি ভিক্ষু পরিষদ আনন্দকে দর্শন করতে আসে তবে তারা দর্শন করে প্রীতি লাভ করে তদুপরি আনন্দ যদি ধর্ম ভাষণ করে তবে তাঁরা ভাষা শ্রবণে প্রীতি লাভ করে, তাকে দর্শনে, ভাষণ শ্রবণে তাঁদের সাধ মিটে না। ভিক্ষু-ভিক্ষুনী, উপাসক-উপাসিকা পরিষদও তাঁর এ গুনে আকৃষ্ট। আনন্দ ছিলেন পন্ডিত ও মেধাবী বুদ্ধ দর্শনের জন্য কার পক্ষে কোন সময়টি উপযুক্ত তা তিনি বিশেষভাবে অবগত হতেন। সেভাবে উপাসক উপাসিকা ভিক্ষু ভিক্ষুণী পরিষদকে বুদ্ধের নিকট যথাসময়ে দেখা করাতেন।
ভিক্ষুণী সংঘ প্রতিষ্ঠায় আনন্দের ভূমিকা : ভিক্ষুণী সংঘ প্রতিষ্ঠায় আনন্দের ভূমিকা ছিল অপরিসীম। মহারাজ শুদ্ধোধনের মৃত্যুর পর মহাপ্রজাপতি গোতমী শাক্য রমনীদের পরিবৃত হয়ে বুদ্ধের কাছে উপস্থিত হয়ে প্রব্রজ্যা গ্রহনের ইচ্ছা পোষন করলেন। কিন্তু বুদ্ধ প্রথমে এতে সম্মত হননি। পরে আনন্দের প্রবল অনুরোধে আটটি বিধানের দ্বারা সংঘে প্রব্রজ্যা দানের ব্যবস্থা অনুমোদন করলেন। তখন হতে সমাজ পরিত্যক্তা, নিগৃহীতা, পতিতা, রমনীদের  ভিক্ষুণী সংঘে প্রবেশ করার দ্বার উন্মুক্ত হল।
আনন্দের অর্হৎ লাভ : তথাগত সম্যক সম্বুদ্ধের পরিনির্বানের পর হতে প্রথম সংগীতি অধিবেশনের পূর্বদিন পর্যন্ত আনন্দ শৈক্ষ্য অবস্থায় অতিক্রম করে সিদ্ধি লাভ করতে পারেননি। এদিকে ভিক্ষুরা তাঁকে সংগীতিতে যোগদানের জন্য নিমন্ত্রণ পাঠিয়েছেন। আনন্দ চিন্তা করলেন আমি এখনও তো অসিদ্ধ অবস্থায় আছি, আমার পক্ষে সংগীতিতে উপস্থিত হয়ে ধর্ম সংঘায়ন করা কি উচিত হবে; তিনি সংগীতিতে যোগদান করবেন না বলে, স্থির করলেন। বৌদ্ধশাস্ত্রে কথিত আছে, আনন্দ ঐ রাতে অর্থাৎ প্রথম সংগীতি আরম্ভ হওয়ার পূর্বরাত্রে দেবগণ কর্র্তৃক বিশেষভাবে উৎসাহিত হয়ে কর্মস্থান ভাবনায় রত হলেন। দীর্ঘরাত্রি পর্যন্ত চংক্রমনে বিদর্শন ভাবনা করতে করতে শেষযামে যখন শান্ত ক্লান্ত দেহে একটু বিশ্রামের জন্য শষ্যাগ্রহণ করতে লাগলেন, যখন পাদদ্বয় ভূমি হতে তুলে মঞ্চোপরি উপাধানে মস্তক স্থাপন করে শয়ন করবেন এমন সময় হঠাৎ তার অন্তরাকাশ দিব্য আলোকে উদ্ভাসিত হয়ে গেল। তিনি বহু আকাংক্ষিত অর্হত্ব ফলে প্রতিষ্ঠিত হলেন।
সংগীতি যোগদান : আনন্দ অর্হত্ব ফলে প্রতিষ্ঠিত হয়ে সংগীতিতে যোগদান করলেন। সংগীতি মন্ডপে পঞ্চশত ভিক্ষু পুরিপূর্ণ হল, তারা সবাই ষড়াভিজ্ঞা অর্হৎ বুদ্ধের দেশিত ধর্ম-বিনয়ে সুদক্ষ ছিলেন। সমবেত ভিক্ষু মন্ডলী সর্ব সম্মতিক্রমে উপালিকে প্রথমে বিনয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তারপর মহাকাশ্যপ স্থবির আনন্দকে ধর্ম সম্পর্কে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেন। আনন্দ নিপুন কন্ঠে যথাযতবাবে প্রত্যেক প্রশ্নের উত্তর প্রদান করলেন। এভাবে সূত্রাদি সঙ্গে অভিধর্মও চয়ন করা হল। এভাবে ধর্ম-বিনয় সাতমাসে সংগ্রহ হয়েছিল।
পরিশেষে বলা যায় যে, আনন্দ স্থবির অগাধ শাস্ত্রজ্ঞানের অধীকারী ছিলেন। এই জন্য বৌদ্ধ শাস্ত্রে তাঁকে বহুশ্রুত ও ধর্মভান্ডারিক উপাধিতে বিভূষিত। উপরোক্ত ভাবে ধর্ম সমূহ রক্ষা করে ১২০ বৎসর বয়সে রোহিনী নদীর মাঝখানে শূন্যকাশে মহাপরিনির্বাণ রাভ করেন।
লেখক পরিচিতিঃ সাধনাজ্যোতি ভিক্ষু, বি, এ (অনার্স) এম. এ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, এম, এড, দারুল আহসান বিশ্ববিদ্যালয়, অধ্যক্ষ, হিলচাদিগাং বৌদ্ধ বিহার, যুগ্ন-সচিব, পার্বত্য ভিক্ষুসংঘ- বাংলাদেশ, সচিব, পার্বত্য বৌদ্ধ মিশন।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.