** ধর্মপদের তাৎপর্যের বিশ্লেষন করে ধর্মপদের রচনাকাল এবং কোন কোন ভাষায় ধর্মপদ রচনা করা হয়েছে তা সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও ?
উত্তর ঃ প্রস্তাবনা ঃ ধর্মপদ খুদ্ধক নিকায়ে দ্বিতীয় গ্রন্থ। এ গ্রন্থে ২৬টি বর্গে সর্বমোট ৪২৩টি গাথাা আছে। প্রত্যেক গাথা স্বয়ং সম্পূর্ণ। সমগ্র বৌদ্ধ সাহিত্যে এটি সর্বাপেক্ষা অধিক পরিচিত, প্রচারিত ও গুরুত্বপূর্ন। প্রাচীনকাল থেকে এর গুরুত্ব ও জনপ্রিয়তা অত্যাধিক। একারণে ধর্মপদ বিভিন্ন ভাষায় অনুদিত হয়েছে। নিম্নে ধর্মপদের তাৎপর্যের বিশ্লেষণ করে ধর্মপদের রচনাকাল এবং কোন কোন ভাষায় ধর্মপদ রচনা সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হয়েছে।
ধর্মপদের তাৎপর্য ঃ ধর্ম ও পদ এ দুটি শব্দ যোগে গ্রন্থের নামকরণ করা হয়েছে ধর্মপদ । ধম্ম বা ধর্ম শব্দের অর্থ নীতি, তত্বশীল, প্রকৃত, স্বাভাবিক ইত্যাদি এবং পদ শব্দের অর্থ পথ বা গাথাংশ ইত্যাদি। আধুনিক পন্ডিতগণ ধর্মপদ শব্দের অনেক ব্যাখা দিয়েছেন। যেমন-
স্পেন্স হার্ডির মতে, এর অর্থ ধর্মের পথ,, গিগারের মতে, ধর্মের সোপান, ফিয়ারের মতে, ধর্মের ভিত্তি, ফৌজবলের মতে, ধর্মের গাথা বা সংগ্রহ।
চৈনিক পন্ডিতদের মতে, ধর্মপদ অর্থ শাস্ত্রবাক্য, আচার্য বুদ্ধঘোষ বলেন, তথাগত সম্যক সম্বুদ্ধ চতুরার্যসত্য অবলম্বন করে মঙ্গলময় সুভাষিত ধর্মপদ বা মুক্তির উপায় নির্বাণের পথ উদ্ভাবন করেছেন।
অতএব, ধর্মপদ শব্দের অর্থ নির্বাণ উপলদ্ধির সোপান, দুঃখ মুক্তির উপায় নির্বাণ বাণী বা অমৃতপথ বলা যেতে পারে।
স্পেন্স হার্ডির মতে, এর অর্থ ধর্মের পথ,, গিগারের মতে, ধর্মের সোপান, ফিয়ারের মতে, ধর্মের ভিত্তি, ফৌজবলের মতে, ধর্মের গাথা বা সংগ্রহ।
চৈনিক পন্ডিতদের মতে, ধর্মপদ অর্থ শাস্ত্রবাক্য, আচার্য বুদ্ধঘোষ বলেন, তথাগত সম্যক সম্বুদ্ধ চতুরার্যসত্য অবলম্বন করে মঙ্গলময় সুভাষিত ধর্মপদ বা মুক্তির উপায় নির্বাণের পথ উদ্ভাবন করেছেন।
অতএব, ধর্মপদ শব্দের অর্থ নির্বাণ উপলদ্ধির সোপান, দুঃখ মুক্তির উপায় নির্বাণ বাণী বা অমৃতপথ বলা যেতে পারে।
ধর্মপদের রচনাকাল ঃ ত্রিপিটকের অন্যান্য গ্রন্থের মত পালি ধর্মপদ সঠিক সংকলণ কাল নির্ণয় করা সম্ভব নয়। ধর্মপদের বহু গাথা ত্রিপিটকের অন্যান্য গ্রন্থে পাওয়া যায়। সুতরাং ধর্মপদের রচনাকাল ত্রিপিটকের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত।
অভিধর্ম পিটকের পঞ্চম গ্রন্থ “কথাবত্থুতে” ধর্মপদের বহু গাথা উদ্ধৃত হয়েছে। সুত্রনিপাতের অন্তর্গত অট্ঠক বগগ, পরায়ন বগগ ও টীকা গ্রন্থ নিদ্দেসে, নেত্তিপকরান ও পেটকোপদেসে ধর্মপদের বহু গাথা উদ্ধৃত আছে। উপরোক্ত গ্রন্থগুলো সম্ভবত খৃঃপুঃ দ্বিতীয় শতাব্দীতে সংকলন করা হয়েছে।
দীপবংশ, মহাবংশ ও সমস্তপাসাদিকায় উল্লেখ আছে, সম্রাট অশোক নিগ্রোধ শ্রমণের মূখে ধর্মপদের অপপমাদ বর্গেগর আবৃত্তি শুনে বৌদ্ধ ধর্মের প্রতি আকৃষ্ট হয় এবং উপাসক রূপে দীক্ষা গ্রহন করেন। বুদ্ধঘোষ ধর্মপদ অটঠকথা নামে একটি টিকা গ্রন্থ রচনা করেন।
খৃষ্টীয় প্রথম শতাব্দীতে রচিত মিলিন্দ পঞ্ঞহই প্রাচীনতম পালি গ্রন্থ। এখানে গ্রন্থরুপে ধর্মপদের উল্লেখ পাওয়া গেছে। আনুমানিক খৃষ্টীয় দ্বিতীয় শতাব্দীতে রচনা মহাসাংঘিক সম্প্রদায়, কৃতমহাবত্থু অবদানে আমরা ধর্মপদের উল্লেখ পায় যথোক্তং ভগবতো ধর্ম পদেসু। মধ্যে এশিয়ার খোটালে প্রাপ্ত প্রাকৃত ধর্মপদ অশোকের সময়কালীন উত্তর -পশ্চিমে প্রাকৃত ভাষায় লেখিত। এ সকল প্রমাণ হতে এটি সুস্পষ্ট অন্তত পক্ষে খৃঃপুঃ প্রথম শতাব্দীর পূর্বে ধর্মপদ গ্রন্থটি রচনা হয়েছে।
সংস্কৃত, প্রাকৃত, তির্ব্বতী ও চীনা অনুবাদের সংঙ্গে পালি ধর্মপদের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করলে এ সিদ্ধান্তে আসা যায় পালি সংস্করণ প্রাচীণতম এবং অনেক বেশী সুবিন্যস্ত। অশোকের ধর্মের মূলতত্ব ধর্মপদে বিবৃত আছে। ধর্মপদের “সব্ব দানং, ধম্ম দানং জিনাতি”-উক্তিটি অশোকের শিলা লিপিতে প্রাকৃত ভাষান্তর দেখা যায়। অশোক ধর্মপদের নৈতিক উপদেশ সম্পর্কে অবহিত ছিলেন মনে করা অসঙ্গত নয়।
অতএব, ত্রিপিটকের অন্যান্য গ্রন্থের ন্যায় ধর্মপদের সঠিক রচনা কাল নির্ণয় সহজ ব্যাপার নয়। উপরোক্ত আলোচনা থেকে অনুমান করতে পারি শাক্যকুমার বুদ্ধত্ব লাভের ৬০০ বছর পর হতে সম্রাট অশোকের ৩য়/৪র্থ শতাব্দীতে পূর্বে কোন এক সময়ে ধর্মপদ রচনা হয়েছে।
অভিধর্ম পিটকের পঞ্চম গ্রন্থ “কথাবত্থুতে” ধর্মপদের বহু গাথা উদ্ধৃত হয়েছে। সুত্রনিপাতের অন্তর্গত অট্ঠক বগগ, পরায়ন বগগ ও টীকা গ্রন্থ নিদ্দেসে, নেত্তিপকরান ও পেটকোপদেসে ধর্মপদের বহু গাথা উদ্ধৃত আছে। উপরোক্ত গ্রন্থগুলো সম্ভবত খৃঃপুঃ দ্বিতীয় শতাব্দীতে সংকলন করা হয়েছে।
দীপবংশ, মহাবংশ ও সমস্তপাসাদিকায় উল্লেখ আছে, সম্রাট অশোক নিগ্রোধ শ্রমণের মূখে ধর্মপদের অপপমাদ বর্গেগর আবৃত্তি শুনে বৌদ্ধ ধর্মের প্রতি আকৃষ্ট হয় এবং উপাসক রূপে দীক্ষা গ্রহন করেন। বুদ্ধঘোষ ধর্মপদ অটঠকথা নামে একটি টিকা গ্রন্থ রচনা করেন।
খৃষ্টীয় প্রথম শতাব্দীতে রচিত মিলিন্দ পঞ্ঞহই প্রাচীনতম পালি গ্রন্থ। এখানে গ্রন্থরুপে ধর্মপদের উল্লেখ পাওয়া গেছে। আনুমানিক খৃষ্টীয় দ্বিতীয় শতাব্দীতে রচনা মহাসাংঘিক সম্প্রদায়, কৃতমহাবত্থু অবদানে আমরা ধর্মপদের উল্লেখ পায় যথোক্তং ভগবতো ধর্ম পদেসু। মধ্যে এশিয়ার খোটালে প্রাপ্ত প্রাকৃত ধর্মপদ অশোকের সময়কালীন উত্তর -পশ্চিমে প্রাকৃত ভাষায় লেখিত। এ সকল প্রমাণ হতে এটি সুস্পষ্ট অন্তত পক্ষে খৃঃপুঃ প্রথম শতাব্দীর পূর্বে ধর্মপদ গ্রন্থটি রচনা হয়েছে।
সংস্কৃত, প্রাকৃত, তির্ব্বতী ও চীনা অনুবাদের সংঙ্গে পালি ধর্মপদের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করলে এ সিদ্ধান্তে আসা যায় পালি সংস্করণ প্রাচীণতম এবং অনেক বেশী সুবিন্যস্ত। অশোকের ধর্মের মূলতত্ব ধর্মপদে বিবৃত আছে। ধর্মপদের “সব্ব দানং, ধম্ম দানং জিনাতি”-উক্তিটি অশোকের শিলা লিপিতে প্রাকৃত ভাষান্তর দেখা যায়। অশোক ধর্মপদের নৈতিক উপদেশ সম্পর্কে অবহিত ছিলেন মনে করা অসঙ্গত নয়।
অতএব, ত্রিপিটকের অন্যান্য গ্রন্থের ন্যায় ধর্মপদের সঠিক রচনা কাল নির্ণয় সহজ ব্যাপার নয়। উপরোক্ত আলোচনা থেকে অনুমান করতে পারি শাক্যকুমার বুদ্ধত্ব লাভের ৬০০ বছর পর হতে সম্রাট অশোকের ৩য়/৪র্থ শতাব্দীতে পূর্বে কোন এক সময়ে ধর্মপদ রচনা হয়েছে।
বিভিন্ন ভাষায় সংকলন ঃ – বুদ্ধ যুগের অবসানের পর ইংরেজ আমলের প্রারম্ভ পর্যন্ত ধর্মপদের আলোচনা ও গবেষণা কিছু দিনের জন্য পাক-ভারতে সীমিত থাকলেও অন্য কোন গ্রন্থের তুলনায় এর চর্চা বর্তমান জগতে কম নয়। তার প্রমাণ পাওয়া যায় এর বহুল প্রচারে ও জগতের প্রধান প্রধান ভাষায় অনুবাদ এবং নিত্য নতুন সংস্করণের মাধ্যমে তম্মধ্যে এ পর্যন্ত ধর্মপদের চারটি সংস্করণ হয়েছে। যথা- ১। পালি ২। প্রাকৃত ৩। সংস্কৃত ও ৪। মিশ্র সংস্কৃত।
পালি ঃ ধর্মপদের বিবিধ সংস্করনের মধ্যে পালি সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য এবং স্বয়ং সম্পূর্ন। এটি ২৬টি অধ্যায়ে ৪২৩টি শ্লোক আছে। দেশী ও বিদেশী বহু ভাষার এটি অনুবাদ প্রকাশিত হয়েছে।
প্রাকৃত ঃ এটি অল্পকিছু অংশ মাত্র চৈনিক তুর্কিস্থানে পাওয়া যায়। এটি খরোষ্ঠী হরফে লেখা। শ্লোক ও অধ্যায়ের সংখ্যা সম্পর্কে নিশ্চিত করে বলা কঠিন। কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় হতে ড.বড়–য়া ও কর্তৃক একটি সুন্দর সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে।
সংস্কৃত ঃ মুল সংস্কৃতে রচনা ধর্মপদের কিছু পাত্তু লিপি তুরফান হতে আবিস্কৃত হয়েছে। এগুলো পরবর্তী কালিন গুপ্ত হরফে রচনা এর নাম উদান বর্গ। চৈনিক সুত্র হতে জানা যায় ধর্মত্রাত এক সংগ্রহ গাথা সংগ্রহ করে উদান বর্গকে ৩৩টি অধ্যায়ে বিভক্ত করেন। এটি সর্বাস্তিবাদ শাখার সংকলিত ধর্মপদ।
মিশ্র সংস্কৃত ঃ মহাবস্তু অবদানে উদ্ধৃত দুটি বর্গ সহস্রবর্গ ও ভিক্ষুবর্গ এবং বিক্ষিপ্ত কতিপয় সংস্করণকে ভিত্তি করে রচনা হয়েছে এটি মিশ্র সংস্কৃত ধর্মপদ। এর ভাষা মহাবস্তুর মত প্রাকৃতে মিশ্রিত। এটি মহা সংঘিক সম্প্রদায়ের শাখা লোকোত্তর বাদীদের সংকলণ বলে মনে হয়। এর সম্পূর্ন সংস্করণে কতগুলো বর্গছিল তা এখনও অজ্ঞাত। মহাবস্তুতে উদ্ধৃত বর্গ দুটি গাথা বিন্যাসে ধর্মপদের অন্যান্য সংস্করণের সাথে সাদৃশ্য আছে।এ গুলো ছাড়াও বমীর্, সিংহলী, থাই, ফরাসী, ইংরেজী ও রাশিয়া প্রভৃতি ভাষার এর একাধিক অনুবাদ প্রকাশিত হয়েছে।
পালি ঃ ধর্মপদের বিবিধ সংস্করনের মধ্যে পালি সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য এবং স্বয়ং সম্পূর্ন। এটি ২৬টি অধ্যায়ে ৪২৩টি শ্লোক আছে। দেশী ও বিদেশী বহু ভাষার এটি অনুবাদ প্রকাশিত হয়েছে।
প্রাকৃত ঃ এটি অল্পকিছু অংশ মাত্র চৈনিক তুর্কিস্থানে পাওয়া যায়। এটি খরোষ্ঠী হরফে লেখা। শ্লোক ও অধ্যায়ের সংখ্যা সম্পর্কে নিশ্চিত করে বলা কঠিন। কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় হতে ড.বড়–য়া ও কর্তৃক একটি সুন্দর সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে।
সংস্কৃত ঃ মুল সংস্কৃতে রচনা ধর্মপদের কিছু পাত্তু লিপি তুরফান হতে আবিস্কৃত হয়েছে। এগুলো পরবর্তী কালিন গুপ্ত হরফে রচনা এর নাম উদান বর্গ। চৈনিক সুত্র হতে জানা যায় ধর্মত্রাত এক সংগ্রহ গাথা সংগ্রহ করে উদান বর্গকে ৩৩টি অধ্যায়ে বিভক্ত করেন। এটি সর্বাস্তিবাদ শাখার সংকলিত ধর্মপদ।
মিশ্র সংস্কৃত ঃ মহাবস্তু অবদানে উদ্ধৃত দুটি বর্গ সহস্রবর্গ ও ভিক্ষুবর্গ এবং বিক্ষিপ্ত কতিপয় সংস্করণকে ভিত্তি করে রচনা হয়েছে এটি মিশ্র সংস্কৃত ধর্মপদ। এর ভাষা মহাবস্তুর মত প্রাকৃতে মিশ্রিত। এটি মহা সংঘিক সম্প্রদায়ের শাখা লোকোত্তর বাদীদের সংকলণ বলে মনে হয়। এর সম্পূর্ন সংস্করণে কতগুলো বর্গছিল তা এখনও অজ্ঞাত। মহাবস্তুতে উদ্ধৃত বর্গ দুটি গাথা বিন্যাসে ধর্মপদের অন্যান্য সংস্করণের সাথে সাদৃশ্য আছে।এ গুলো ছাড়াও বমীর্, সিংহলী, থাই, ফরাসী, ইংরেজী ও রাশিয়া প্রভৃতি ভাষার এর একাধিক অনুবাদ প্রকাশিত হয়েছে।
উপসংহার ঃ উপরিউক্ত আলোচনা থেকে জানা যায় যে, প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মনীষিগণ ধর্মপদের সাম্প্রদায়িক স্বীকার করেছেন। মানুষ অন্তজীবন ও বর্হিজীবনের সর্বাঙ্গ সুন্দর সুসংহত রুপায়নের মধ্যেই ধর্মপদের বাণী পরিপূর্ন অভিব্যাক্তি।স ুতরাং ধর্মপদ হচ্ছে, বৌদ্ধ নৈতিক উপদেশ ও সহজ তত্ত্ব ব্যাখ্যায় বিশ্ব সাহিত্যে একটা অনবদ্য গ্রন্থ।
সাধনাজ্যোতি ভিক্ষু
বি. এ (অনার্স) এম. এ, এম. এড
বি. এ (অনার্স) এম. এ, এম. এড








কোন মন্তব্য নেই